রাজ্যে উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে ৫১ বছর পর রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ গড়ার উদ্যোগ নিতে চলেছে রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিচালিত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা-অন্ধপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উওরপ্রদেশ ও বিহার দেশের এই ছ’টি রাজ্যে রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ রয়েছে। এবার সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গকে আনতে মুখ্যমন্ত্রী ২০১১ সালের পর বিধানসভায় নতুন বিল আনতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর। বিধান পরিষদে মনোনীত সদস্যদের তিনটি টার্মে ছ’বছরের জন্য নিয়োগ করা হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিধান পরিষদ গঠিত হয়। যারা রাজ্যের কার্যকারিতা গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এদিকে ১৭ মে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো এ রাজ্যে ৫১ বছর পর রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষ বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিল।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় সংবিধানের ১৬৮(১) নং ধারা অনুযায়ী ভারতের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের একটি করে আইনসভা রয়েছে। রাজ্য-আইনসভা এককক্ষবিশিষ্ট কিংবা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট হতে পারে। যেসব রাজ্যের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট, তার উচ্চকক্ষের নাম বিধান পরিষদ (Legislative Council) এবং নিম্নকক্ষের নাম বিধানসভা (Legislative Assmebly)। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট রাজ্য-আইনসভা ‘বিধানমণ্ডলী’ নামে পরিচিত। বর্তমানে ভারতের ২৮টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা-অন্ধপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উওরপ্রদেশ ও বিহারের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। এই ছ’টি রাজ্য ছাড়া অন্য সব রাজ্যের আইনসভা হল এককক্ষবিশিষ্ট। পঞ্জাব, তামিলনাড়ু অন্ধপ্রদেশ ও এ পশ্চিমবঙ্গেও একসময় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা ছিল। বিভিন্ন সময়ে এই রাজ্যগুলির দ্বিতীয় কক্ষের বিলোপসাধন হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী প্রথমে অন্ধপ্রদেশ-তেলঙ্গানা এবং ২০১০ সালে তামিলনাড়ুতে বিধান পরিষদকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বর্তমানে এই দু’টি রাজ্যের আইনসভা হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে ১৯৬৯ সালে রাজ্য আইনসভার উচ্চকক্ষের অবলুপ্তি ঘটে।