Home Uncategorized নিম্নচাপের বৃষ্টিতে এবারে ভালো ফলনের আশায় চাষিরা দক্ষিন ২৪ পরগনায়

নিম্নচাপের বৃষ্টিতে এবারে ভালো ফলনের আশায় চাষিরা দক্ষিন ২৪ পরগনায়

0

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : গত বছর সে ভাবে আমের ফলন হয়নি। তাই এ বছর বিপুল ফলন হবে এমনটাই আশা দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমচাষিদের। সেই পূর্বাভাস মিলে গিয়েছিল ছোট বড় প্রতিটি আম গাছে মুকুলের বাহার দেখে। বেশ কিছুদিন হল মুকুল থেকে ছোট ছোট আমের গুটি বেরিয়েছে।কোনও কোনও গাছে আবার ছোট ছোট ফল ধরেছে।কিন্তু গত শুক্রবার কালবৈশাখীর পূর্বাভাসে ঘুম উড়েছিল জেলার আমচাষিদের। কিন্তু শুক্র ও শনিবার হালকা বৃষ্টিতে স্বস্তি পেলেন চাষিরা।জয়নগর, কুলতলি, বারুইপুর, ভাঙড়, ক্যানিং, সোনারপুর সর্বত্র কম বেশি বৃষ্টি হলেও কোনও ঝড় হয়নি।এমন বৃষ্টিতে বোঁটা শক্ত হয়ে দ্রুত বড় হবে আম।হালকা বৃষ্টি হওয়ায় খুশি গ্রীষ্মকালীন সব্জি চাষিরাও। হালকা বৃষ্টিতে মাঠে জল না জমায় সব্জি গাছ গুলো তাজা হয়ে উঠেছে। ফলে অকাল বৃষ্টিতে মুখে হাসি ফুটেছে চাষিদের। বিশেষ করে ধানচাষিরা খুব খুশি। আগামী কয়েকদিন আর পয়সা খরচ করে জলসেচ করতে হবে না তাঁদের।জেলা কৃষি ও উদ্যান পালন দপ্তর সূত্রে খবর,এই মুহুর্তে প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসলহিসাবে উচ্ছে, বেগুন, কুমড়ো, লাউ,পটল, ঝিঙে, লঙ্কার মতো সব্জি চাষ হচ্ছে। জেলায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের গাছ আছে। এ সময় মাঠে শোভা পাচ্ছে গাঁদা, রজনীগন্ধা, চন্দ্রমল্লিকা।জয়নগরের উত্তর দূর্গাপুরের এক আম চাষি বলেন,গত বছর আমের ফলন সেভাবে হয়নি। এ বছর প্রচুর মুকুল হয়েছে। আশা করছি খুব ভালো ফলন হবে। অসময় বৃষ্টি হওয়ায় আম চাষের খুব উপকার হল। এটা প্রকৃতির আশীর্বাদ আমাদের কাছে।দক্ষিন ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম বলেন,এই বৃষ্টিতে আম, সবজি ও ধানের খুব উপকার হলো।বারুইপুরের অধিকাংশ বাগানেই আম, লিচু, পেয়ারাসহ একাধিক ফলের চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় হাজার দশেক চাষি। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার ফলের ব্যবসা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ফল বিক্রেতারা এখানকার ফলের উপরেই নির্ভরশীল।সেই বারুইপুরে এ বার দু’দিনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে লাভের মুখ দেখার সুযোগ মিলেছে বলে দাবি ফলচাষিদের।এই সময়ে বারুইপুরে বাগানগুলিতে হরেক প্রজাতির আম এবং দেশি,বোম্বাই প্রজাতির লিচু ফলতে শুরু করেছে। সঙ্গে রয়েছে পেয়ারা।বারুইপুরের চাষিরা বলেন, আম ও লিচুর বোঁটা শক্ত হবে এই বৃষ্টিতে। ফলে আগামী দিনে গাছ থেকে ফল ঝরে পড়বে কম।এ ব্যাপারে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রমের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান সিনিয়র কৃষি বিজ্ঞানী ড: চন্দন কুমার মন্ডল বলেন,এই বৃষ্টি  উপকার করেছে আমের ফলনে।তবে ফুল থেকে যখন ফল মটর দানার মতো হচছে তখন একটা স্প্রে করতে হবে হপার পোকা দমনের জন্য। সাধারণত মুকুল আসার আগে হপার পোকার জন্য স্প্রে করতে হয়।হপার পোকার জন্য ডায়াজিনন ৬০ ইসি বা লেবাসিড ৫০ ইসি চা চামচের ৪ চামচ ৮.৫ লিটার জলে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর দুই বার স্প্রে করতে হবে।আমটা যখন গুটি আকার ধারণ করবে তখন ১০-২০ দিন পর পর বোরিক এসিড ৬ গ্রাম/১০ লি. জলে স্প্রে করলে আমের গুটির পরিমাণ বেড়ে যাবে। আম গাছের পাশে মৌমাছি পালন করতে পারেন প্রাকৃতিক পরাগায়নের জন্য। আম গাছে মুকুল আসার আগে স্প্রে করা যেমন জরুরি নয়, তেমনি মুকুল ফোটার পর স্প্রে করা জরুরি নয়।আর এবছর আম,লিচু ও পেয়ারার ভালো ফলন হবে আশা করা যাচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version